OrdinaryITPostAd

ডায়াবেটিস রোগীর ঘরোয়া ভাবে সুগার ঠিক রাখার উপায়

ডায়াবেটিস রোগীর ঘরোয়া ভাবে সুগার ঠিক রাখার উপায় সম্পর্কে বর্তমান সময়ে পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের জ্ঞান থাকা আবশ্যক, আমাদের কর্ম ব্যস্ততার কারণে অনেক সময় আমাদের শরীরের জন্য কতটুকু ঘুম, কি ধরনের খাবার প্রয়োজন এ ব্যাপারে আমরা একেবারে বেখেয়াল হয়ে পড়ি।
ডায়াবেটিস-রোগীর-ঘরোয়া-ভাবে-সুগার-ঠিক-রাখার-উপায়

এই রোগ নিয়ন্ত্রণের জন্য শুধুমাত্র আপনার সদিচ্ছা দরকার। আপনি সচেতন হয়ে যদি আপনার প্রাত্যহিক জীবন ধারাকে সঠিকভাবে পরিচালনা করতে পারেন, তাহলে এ রোগের অনেক জটিলতা থেকে আপনি নিজেকে রক্ষা করতে পারবেন। নিম্নে এ সম্পর্কে কিছু ধারণা দেওয়া হল।

সূচিপত্র:-

ডায়াবেটিস রোগীর ঘরোয়াভাবে সুগার লেভেল ঠিক রাখার উপায়:-

ডায়াবেটিস রোগীর ঘরোয়াভাবে সুগার লেভেল ঠিক রাখার উপায় মানে শুধুমাত্র পরিমিত কম খাওয়া তা কিন্তু না। আপনার পরিমিত খেতে হবে এবং পর্যাপ্ত ঘুম পারতে হবে এবং ব্যায়াম করতে হবে। পাশাপাশি অনেক গুরুত্ব পূর্ণ নিয়ম নীতি অবলম্বন করতে হবে। এই নিয়ম নীতি জানা শুধুমাত্র ডায়াবেটিস রোগীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ না বরং পুরো পরিবারের জন্য আশীর্বাদ স্বরূপ। শুধুমাত্র খাবার কম খেলেই এই রোগ থেকে নিজেকে সুস্থ রাখা মোটেও সম্ভব নয়। আপনার জীবনধারায় অনেক ছোট ছোট গুরুত্বপূর্ণ অবদানগুলোর পরিবর্তন নিয়ে আসতে হবে। এ রোগের ক্ষেত্রে  আমাদের কে সবসময় মনে রাখতে হবে এটি একটি দীর্ঘ মেয়াদী রোগ। এ রোগ পুরোপুরি বা সম্পূর্ণরূপে আপনার শরীর থেকে নিরাময় হবে না মৃত্যুর আগ পর্যন্ত কিন্তু একে নিয়ন্ত্রিত রাখা যাবে আপনার চেষ্টার মাধ্যমে। আপনি যদি এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর অলসতা মনোভাব নিয়ে জীবন ধারা অতিবাহিত করতে থাকেন তাহলে একসময় অনেক বড় ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হবেন। 

এই রোগ যখনই আপনার শরীরে দেখা দিবে তখনই আপনাকে অলসতা পরিহার করে কঠোর নিয়ম অনুবর্তিতার মধ্যে নিজের জীবনধারা কেউ অতিবাহিত করতে হবে। তবে আপনি এই রোগ থেকে মুক্তি না পেলেও অনেক সুস্থতা নিয়ে বা স্বাভাবিক জীবন যাপন  করতে পারবেন। আপনি সচেতনভাবে নিয়ম নীতি মেনে চললে এই রোগের জটিল পরিস্থিতি থেকে নিজেকে অনেকটা রক্ষা করাতে পারবেন।  খাদ্য অভ্যাসের পাশাপাশি আপনাকে দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে নিয়ম নীতি মেনে চলতে হবে। লাল চালের ভাত, আটার রুটি,  আঁশযুক্ত খাবার শাকসবজি , মাছ ডিম খেতে হবে। খাবার নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি নিয়মিত হাঁটবেন। হাঁটা, ব্যায়াম ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের সহজ উপায়। প্রতিদিন আপনাকে ৩০-৪০ মিনিট হাঁটতে হবে, দ্রুত হাঁটলে শরীর ভালো হবে । দ্রুত হাঁটলে শরীরের ইনসুলিন ভালোভাবে কাজ করে। শরীরের অবস্থা বুঝে আপনাকে হাঁটতে হবে। স্বাভাবিকভাবে হাঁটলে হবে না। আপনাকে এমনভাবে হাঁটতে হবে যেন হাঁটার সময় শরীর থেকে ঘাম বের হয়। আপনি এই পদ্ধতি মেনে চললে ডায়াবেটিস রোগীর ঘরোয়া ভাবে সুগার লেবেল ঠিক রাখার উপায় যথেষ্ট পরিমাণ ভূমিকা রাখবে।

প্রাত্যহিক জীবনে আমাদেরকে পারিবারিকভাবে ব্যক্তিগতভাবে কিছু প্রাকৃতিক উপাদানের উপর নির্ভরশীল থাকতে হয়। বিশেষ করে আমাদের রান্নার ক্ষেত্রে যে প্রাকৃতিক উপাদান গুলো ব্যবহার করে থাকে সেগুলোকে আপনি ঔষধ হিসেবে সেবন করতে পারেন। যেমন জিরা, দারুচিনি, মেথি ,করলা, লবঙ্গ। আপনি যদি নিয়মিত ভাবে এই প্রাকৃতিক উপাদানগুলো পরিমাপ অনুযায়ী সেবন করেন তাহলে শারীরিকভাবে অনেক সুস্থ থাকবেন। এগুলো প্রাকৃতিক উপাদান আপনার শরীরকে সতেজে রাখবে। অতিরিক্ত ওষুধ খাওয়ার ফলে আমাদের শরীরে অনেক সময় বিভিন্ন ধরনের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। আমাদের দৈনন্দিন ওষুধের পাশাপাশি যদি এই প্রাকৃতিক উপাদান গুলো খেতে থাকি, তাহলে ওষুধের সহায়ক হিসেবে কাজ করবে। এতে ডায়াবেটিস রোগীর ঘরোয়া ভাবে সুগার লেবেল ঠিক রাখার উপায়ের ক্ষেত্রে খুব সুন্দর একটি ভূমিকা রাখবে। ডায়াবেটিস রোগীর ঘরোয়া ভাবে সুগার লেবেল ঠিক রাখার উপায়ের ব্যাপারে আপনাকে আপনার শরীরের  ওজনের দিকে খেয়াল রাখতে হবে । 

বয়স এবং উচ্চতার  খেয়াল রাখতে হবে। বয়স এবং উচ্চতা অনুযায়ী কি পরিমান ওজন আপনার শরীরের জন্য ভালো তা ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করে আপনাকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে এবং সেই সিদ্ধান্ত অনুপাতে শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। ডায়াবেটিস রোগীর ঘরোয়া ভাবে সুগার লেভেল ঠিক রাখার উপায় হিসেবে আমাদেরকে দীর্ঘমেয়াদী এক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে। আপনার  জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আপনি যদি নিয়ম নীতি মেনে চলেন তাহলে এর সুফল ভোগ করতে পারবেন। নিয়ম অনুযায়ী আমাদের খাবার খেতে হবে এবং খেয়াল রাখতে হবে খাবারের গুণগত মান টা যেন সঠিক এবং পরিমাণ মতো হয়। নিয়ম অনুযায়ী ব্যায়াম করতে হবে। কতটুকু সময় ধরে ব্যায়াম করতে হবে তা ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। নিয়ম অনুযায়ী ঘুম পাড়তে হবে।  সর্বশেষ কথা সকল কিছুতেই আপনি যদি নিয়ম তান্ত্রিকভাবে চলাফেরা করেন তাহলে অবশ্যই আপনি এটার সুফল ভোগ করতে পারবেন।

ডায়াবেটিস কাকে বলে মানব শরীরে এটি কেন হয়:-

ডায়াবেটিসকে আমরা সাধারণত ইনসুলিন হরমোন জনিত সমস্যা বলতে পারি । এটিকে বাংলায় বহুমূত্র রোগও বলা হয়। এই রোগটি সাধারণত দুই ধরনের রোগ হিসেবে আমাদের কাছে পরিচিত। প্রথমটি টাইপ -১ ডায়াবেটিস। দ্বিতীয়টি টাইপ -২ ডায়াবেটিস।

টাইপ -১ ডায়াবেটিস সাধারণত অল্প বয়সেই এটি দেখা দেয়। আমাদের শরীরে প্যানক্রিয়াস নামের একটি গ্রন্থি আছে। এই গ্রন্থী ইনসুলিন নামক হরমোন তৈরি করে। শরীরের কোন কারণ কারণবশত এই গ্রন্থি যখন হরমোন তৈরি করতে ব্যর্থ হয়, তখন টাইপ -১ ডায়াবেটিস দেখা দেয় । তখন শরীরকে সুস্থ রাখার জন্য ইনসুলিন হরমোন গ্রহণ করতে হয়। টাইপ -১ ডায়াবেটিস হওয়ার ক্ষেত্রে প্রকৃতিগত কারণ কে আমরা সাধারণত ধরে নিতে পারি।

টাইপ -২ ডায়াবেটিস সাধারণত বস্ক লোকদের ক্ষেত্রে দেখা দেয়। এ ধরনের রোগীদের ক্ষেত্রে ইনসুলিন হরমোন রোগীর শরীরের জন্য যে পরিমাণ দরকার। সে পরিমাণে উৎপাদিত হয় না। সেক্ষেত্রে টাইপ -২ ডায়াবেটিস চিহ্নিত করা হয়। এটি সাধারণত অনিয়ন্ত্রিত জীবন যাপন, স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্যের ঘাটতি, শরীরের অতিরিক্ত ওজন, অবশেষে আমরা জেনেটিক কারণও ধরে নিতে পারি। টাইপ -২ ডায়াবেটিস হওয়ার মূল কারণ হচ্ছে আমাদের সচেতনতার অভাব।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে ঘরোয়া উপায়ের প্রতি গুরুত্ব:-

এই রোগ নিরাময়ের ক্ষেত্রে যথেষ্ট পরিমাণ ঘরোয়া উপায়ের প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে। এটি একটি দীর্ঘমেয়াদী রোগ। এই রোগ থেকে পুরোপুরি ভাবে মুক্তি পাওয়ার সংখ্যা একেবারেই নগণ্য । তবে আপনি আপনার সচেতনতা দ্বারা রোগটিকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবেন। শুধুমাত্র আপনার ইচ্ছা শক্তি দরকার। ডায়াবেটিস রোগীর ঘরোয়া ভাবে সুপার লেবেল ঠিক রাখার উপায়ের ক্ষেত্রে সচেতন হতে হবে। আপনাকে লাল চালের ভাত পরিমাণ মতন খেতে হবে, রুটি খেতে হবে, আঁশযুক্ত  খাবার খেতে হবে, মাছ, ডিম, দুধ, মুরগির মাংস খেতে হবে। ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী চলাফেরা করতে হবে ।নিয়মিত শরীর চর্চা করতে হবে। পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুম পারতে হবে । মানসিক প্রফুল্লতায়  থাকতে হবে। পরিবারের সদস্যদেরকে রান্নার ক্ষেত্রেও বিশেষ ভূমিকা রাখতে হবে। এই রোগ নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে ধৈর্য সহকারে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে, সজাগ সচেতনতার মাধ্যমে আপনাকে এগিয়ে যেতে হবে। তাহলে আপনি এটিকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন। 

সঠিক খাদ্য অভ্যাস:-  

শরীরকে সুস্থ ও সুন্দর করার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপায় হচ্ছে সঠিক খাদ্যাভ্যাস। প্রতিদিন আমরা যে খাবারগুলো খাচ্ছি এই খাবারগুলো আমাদের দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি করে এবং জীবনকে গতিশীল স্বাচ্ছন্দ্যময় করে তুলে। শারীরিক চাহিদা অনুপাতে আমরা যদি গুণগত মান সম্পন্ন খাবার না খেয়ে শুধু মাত্র পেট ভরানোর জন্য খাই, তাহলে আমাদের শরীর থেকে পরিপূর্ণভাবে সুস্থতা আশা করতে পারি না। খাদ্যের পুষ্টিগত মান জেনে এবং শরীরের চাহিদা অনুযায়ী আমাদেরকে পুষ্টি সমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে। কিন্তু আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে ব্যস্ততার কারণে এবং অসচেতনতার জন্য প্রতিনিয়ত আমাদের ফাস্টফুড এবং অস্বাস্থ্যকর খাবার খেতে হচ্ছে।


এর ফলে আমাদের মধ্যে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, পেটের নানান ধরনের সমস্যা সহ অনেক জটিল সমস্যায় জর্জরিত হচ্ছি। কিন্তু আমরা যদি একটু সচেতন হয় তাহলে এ সমস্যা থেকে নিজেদেরকে রক্ষা করতে পারি। প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় মাছ, মাংস, দুধ, ডিম, টাটকা ফলমূল, দই রাখতে হবে। বিশেষ করে টক দইটা আপনি একটু করে হলেও খাওয়ার অভ্যাস করবেন। টক দইয়ে এমন কিছু  জাদুকরি গুণাগুণ রয়েছে যা আপনার শরীর এবং মন উভয়কে সুস্থ রাখবে। মনে রাখবেন পুষ্টিকর খাবার খেলে আপনার দেহ এবং মন উভয় সুস্থ থাকবে। প্রাত্যহিক জীবনে চলার ক্ষেত্রে শরীর এবং মন উভয়কে গতিশীল করবে। সকল কিছুতেই আপনি নিজেকে প্রফুল্লতার সহিত বা  সতেজতার সহিত পরিচালনা করতে পারবেন।

নির্দিষ্ট সময়ে খাবার খাওয়া:-

নির্দিষ্ট সময়ে আপনি খাবার খেলে আপনার শরীর ও মন নিয়ম অনুযায়ী  সচল থাকবে। শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ গুলো সঠিকভাবে তার ক্রিয়া-কলাপ বজায় রাখবে। আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে ব্যস্ততার কারণে সঠিক সময়ে খাদ্য গ্রহণের ক্ষেত্রে যথেষ্ট পরিমাণ অবহেলা রয়েছে। কর্ম ব্যস্ততার কারণে সকালের নাস্তার ক্ষেত্রে আমরা হালকা কিছু খাবার খেয়ে নিয়ে প্রয়োজন মিটিয়ে নি। যেটা আমাদের শরীরের জন্য পরবর্তীতে অনেক সমস্যা বয়ে নিয়ে আসে। কোন কোন ক্ষেত্রে ব্যস্ততার কারণে, দুপুরেও আমরা অনেক সময় খাবার বাদ দিয়ে বাজারের প্যাকেট খাবার খেয়ে প্রয়োজন মিটিয়ে নি। অনেক সময় বিভিন্ন কারণবশত রাতের খাবারও দেরি হয়ে যায়। শরীরকে সুস্থ রাখার  জন্য খাদ্য গ্রহণের ক্ষেত্রে এ ধরনের অনিয়ম কখনো সুফল বয়ে নিয়ে আসে না।


আপনি যদি সুস্থ থাকতে চান তাহলে নির্দিষ্ট সময় খাবার খান। নির্দিষ্ট সময় খাবার খাওয়ার মধ্যে অনেক গুলো উপকার রয়েছে, তার মধ্যে একটি হলো ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা। নির্দিষ্ট সময় ক্ষুধা মেটানোর জন্য বেশি খাবার খেতে হয় না, দীর্ঘ সময় না খাওয়ার ফলে আমাদেরকে অতিরিক্ত ক্ষুধা লেগে যায় । তখন আমরা বেশি পরিমাণে খাবার খেয়ে নি। নির্দিষ্ট সময় খাবার খেলে শরীরের হজম প্রক্রিয়া সঠিকভাবে কাজ করে । ডায়াবেটিস একটি দীর্ঘমেয়াদী রোগ। এই রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইলে। আপনাকে নির্দিষ্ট সময় খাবার খেতে হবে। এই রোগীদের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময় খাবার খাওয়া চিকিৎসার একটি অংশ। নির্দিষ্ট সময় খাবার খেলে রক্তের শর্করার মাত্রা ঠিক থাকে। নির্দিষ্ট সময় খাবার খাওয়া ডায়াবেটিস  রোগীর ঘরোয়া ভাবে সুগার ঠিক রাখার উপায় এর ক্ষেত্রে যথেষ্ট পরিমাণ গুরুত্ব রয়েছে। 

নিয়ম অনুযায়ী হাঁটা ও ব্যায়াম এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা:-

শারীরিক সুস্থতার জন্য নিয়মিত হাঁটা প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যায়াম করা এবং শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণ রাখার ক্ষেত্রে যথেষ্ট পরিমাণ ভূমিকা রয়েছে । এই তিনটি জিনিসের সমন্বয় করে আপনি যদি প্রাত্যহিক জীবন অতিবাহিত করতে পারেন তাহলে অতি সুন্দর সুস্থতার দিকে ধাবিত হবেন। বিজ্ঞানের অবদানের ক্ষেত্রে প্রতিটি কর্মস্থলে প্রায় জায়গাতে প্রযুক্তির ছোঁয়া লেগেছে । পরিশ্রম কমে গিয়েছে।  পরিশ্রম না করার ফলে অল্প বয়সেই শরীরের ওজন বৃদ্ধি হচ্ছে। উচ্চ রক্তচাপ এবং ডাইবেটিস ও হৃদরোগের মতো জটিল সমস্যা আমাদের শরীরে বাসা বাঁধছে। হাঁটতে আমাদের কোন অর্থ খরচ হয় না।  এই হাঁটাকে আমরা যদি নিয়মিত করতে পারি তাহলে আমাদের দৈহিক সুস্থতার ক্ষেত্রে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।


এই হাঁটাকে কার্যকারী ব্যায়াম হিসেবে গ্রহণ করা যেতে পারে্। নিয়মিত হাঁটার ফলে শরীরের রক্ত চলাচল ভালো হয়। হৃদ যন্ত্রের কার্যকারিতা বৃদ্ধি হয়, শরীর এবং মন উভয় সতেজ থাকে। হাঁটার সময় শরীরের পেশিগুলো কাজ করে যার ফলে  শরীরের অতিরিক্ত চর্বি কমে, ঘুম ভালো হয়, মানসিক চাপও কম হয়। শরীরকে সুস্থ রাখার জন্য হাঁটার পাশাপাশি হালকা ব্যায়াম কেউ যথেষ্ট পরিমাণ গুরুত্ব দিতে হবে। যেমন সাঁতার কাটা, ফ্রি হ্যান্ড এক্সারসাইজ করা, দৌড়ানো,  স্ট্রেচিং এগুলো নিয়মিত করলে আপনার শরীর ফিট থাকবে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা আপনার জীবনের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। ওজন অতিরিক্ত হলে শুধুমাত্র আপনার শরীরকে অসুস্থ করে তা কিন্তু না। ইহা শরীরের সৌন্দর্য কেউ নষ্ট করে দেয়। শরীরে অতিরিক্ত চর্বি হলে আপনার ওজন বৃদ্ধি হবে। তখন আপনি মোটা হয়ে যাবেন, এমত অবস্থায় শরীরে অনেক ধরনের অসুখ বাসা বাঁধে। ডায়াবেটিস রোগীর ঘরোয়া ভাবে সুগার ঠিক রাখার ক্ষেত্রে যথেষ্ট পরিমাণ সজাগ থাকতে হবে। 
ডায়াবেটিস-রোগীর-ঘরোয়া-ভাবে-সুগার-ঠিক-রাখার-উপায় (3)

শরীরের চাহিদা অনুযায়ী পানি পান করা:-

পানির অপর নাম জীবন। পানি ছাড়া মানুষের জীবনের অস্তিত্ব কল্পনা করা যায় না। মানব শরীরের ষাট শতাংশই পানি দ্বারা গঠিত। আমরা যখন তৃষ্ণার্তক হয়ে উঠি তখন আমাদের শরীরে পানির প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। শুধুমাত্র তৃষ্ণার্তক হয়ে উঠলেই পানি পান করার প্রয়োজন মনে করি। অনেকে মনে করেন আট দশ গ্লাস পানি পান  করা উচিত। আসলে সঠিক হিসাব তা না, আমাদের শরীরে যে পরিমাণ পানির চাহিদা তৈরি হবে সেই পরিমাণ খেতে হবে। অতিরিক্ত পানিও অনেক সমস্যা তৈরি করে। কিন্তু আপনি চরমভাবে  তৃষ্ণার্তক হয়ে ওঠার আগে  এক থেকে দুই গ্লাস পানি সেবন করে আপনার শরীরের হজম প্রক্রিয়া স্বাভাবিক রাখতে পারেন।


 এতে আপনার শরীর সুস্থ থাকবে আমাদের শরীরের ভেতরে খাবারের পুষ্টিগুণ ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য পানির যথেষ্ট পরিমাণ ভূমিকা রয়েছে। শরীরের বজ্র পদার্থ বের করা, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষেত্রেও পানির উপকারিতা অপরিহার্য। প্রস্রাবের  কারণে, শ্বাস-প্রশ্বাসের কারণে, আমরা আমাদের শরীর থেকে সার্বক্ষণিক পানি হারাচ্ছি। এই প্রক্রিয়ায় পানি হারানোর  ফলে আমাদের শরীরের জন্য পানি শূন্য না হয়ে  পড়ে সেই দিকে খেয়াল রাখতে হবে। কিছু গবেষণার সূত্র মতে পর্যাপ্ত পানি পান করলে শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে। সেই পানি শূন্যতা এড়ানোর জন্য যথেষ্ট পরিমাণ পানি পান করলে মস্তিষ্কের কার্যকারিতা ঠিক থাকবে।

মানসিক চাপ থেকে নিজেকে মুক্ত রাখা:-

বর্তমান সময়ে  সুন্দর জীবনের জন্য মানসিক চাপ মুক্ত থাকা অত্যন্ত প্রয়োজন। আমাদের জীবনে ব্যস্ততার শেষ নেই। ব্যক্তিগত কাজ, পরিবারের কাজ সবকিছু মিলিয়ে আমাদেরকে অত্যন্ত মানসিক চাপের মধ্যে থাকতে হয়। এই চাপ আমাদের মনে এবং শরীরে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এই নেতিবাচক প্রভাব থেকে নিজেকে মুক্ত করার জন্য কৌশল জানতে হবে। নিজের জীবনকে নিয়ন্ত্রিতভাবে পরিচালিত করতে হবে। নির্দিষ্ট সময়ে খাবার খেতে হবে।  নিয়মিত ঘুম পাড়া এবং হাঁটা, ব্যায়াম করা এই অভ্যাসগুলো মেনে চললে শরীরকে শান্ত রাখা এবং মনকেউ শান্ত রাখা সম্ভব হয়। মানসিক চাপ কমানোর জন্য মনের কথা প্রকাশ করা একে কার্যকারী উপায় হিসেবে ধরে নিতে পারেন।


ঘনিষ্ঠ বন্ধু-বান্ধব প্রিয়জনের সঙ্গে পরিবারের সদস্যের সঙ্গে কথা বলে নিজেকে হালকা করতে পারেন। হাজারো কর্মব্যবস্থার মাঝে নিজেকে মানসিক চাপমুক্ত রাখার জন্য, গান শোনা, বই পড়া, নিজের বাগানে হালকা কাজ করা, ধ্যান বা প্রার্থনা করা।  এসব কাজ মনকে শান্ত রাখে এবং মানসিক  শক্তি যোগায়। জীবনের লক্ষ্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে আমাদেরকে গুরুত্ব দিতে হবে। অনেক সময় আমরা আমাদের ক্ষমতার বাইরে লক্ষ্য নির্ধারণ করে থাকি, তা পূরণ করতে গিয়ে আমাদেরকে অনেক মানসিক চাপের মধ্যে পড়তে হয়। সেই জন্য ছোট্ট লক্ষ্য ঠিক করলে  অতি সহজে সাফল্য পাওয়া যায়। এতে আমাদের মানসিক চাপও কমে।  

শারীরিক সুস্থতার জন্য পর্যাপ্ত ঘুম দরকার:-

পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুম ছাড়া শরীরের সুস্থতা আশা করা যায় না।  আমাদের শরীরকে যন্ত্র বলাটা ভুল হবে না। সারাদিন পরিশ্রমের পরে আমাদের শরীর ক্লান্ত হয়ে পড়ে। শরীরের ক্লান্তি দূর করার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুম অবশ্যই প্রয়োজন। শরীর এবং মনকে পুনরুজ্জীবিত করার উত্তম উপায় হচ্ছে  বিশ্রাম এবং ঘুম। প্রতিটি মানুষের শারীরিক এবং মানসিক সুস্থতার ক্ষেত্রে প্রতিদিন সাত থেকে  আট ঘন্টা ঘুমের প্রয়োজন। শরীরের কোষগুলোকে পুনর্গঠিত করতে চাইলে আমাদেরকে পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুমোতে হবে।


এই ঘুমের মাধ্যমে আপনি শারীরিক সুস্থতা ফিরে পাবেন। আপনি যদি শারীরিক চাহিদা মিটিয়ে ঘুম না পারেন তাহলে আপনার শরীরে অনেক ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। যেমন মাথা ব্যাথা,স্মৃতিশক্তি ভালোভাবে কাজ না করা, কাজের প্রতি মনোযোগ না থাকা। এমনকি আপনার শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও কমে যেতে পারে। আপনার শরীরে যে হরমোন গুলো আছে ঘুমের মাধ্যমে এই হরমোনের ভারসাম্য ঠিক হয় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়। অতএব ডায়াবেটিস রোগীর ঘরোয়া ভাবে সুগার ঠিক রাখার উপায়ের ক্ষেত্রে ঘুমের প্রতি যত্নশীল হতে হবে।

প্রতিদিন সুগার চেক করা:-

ডায়াবেটিস একটি দীর্ঘমেয়াদীর রোগ। এই রোগীদের জন্য প্রতিদিন সুগার চেক করা অত্যন্ত জরুরী। সুগার চেকের মাধ্যমে রক্তের শর্করার মাত্রা ঠিক রাখতে হবে। সুগার চেকের মাধ্যমে রক্তের শর্করা কোন পজিশনে আছে সেটি বুঝা যায়। সেই অনুপাতে খাবার এবং ওষুধের পরিবর্তন আনা যায়। এই রোগটিকে আপনি নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইলে প্রতিদিন সুগার চেক করতে হবে, সুগার চেক না করলে আমরা নিশ্চিত হতে পারি না আমাদের রক্তের শর্করার মাত্রা কম না, বেশি। কিন্তু সুগার চেকের মাধ্যমে দ্রুত এর সমাধান বের করা সম্ভব এবং সে অনুপাতে সিদ্ধান্ত নিতে পারি। 


ডায়াবেটিস রোগীদের প্রতিদিনের খাবারের ক্ষেত্রে যথেষ্ট পরিমাণ গুরুত্ব রাখতে হবে। সুগার চেকের মাধ্যমে আমরা বুঝতে পারি , কোন খাবারটি খেলে আমাদের শরীরে সুগারের মাত্রা বেড়ে যায়। তাহলে আমরা সে খাবারটি কম খাওয়ার সিদ্ধান্ত নেব। হাঁটা এবং ব্যায়ামের পরে যদি সুগারের মাত্রা কমে যায় তাহলে আমরা এটিকে গ্রহণ করব। প্রতিদিন সুগার চেক করা অনেকের কাছে কষ্টকর হতে পারে। বাস্তবে এটি তেমন কষ্টকর নয়, বর্তমান সময়ে বাজারে অনেক ধরনের গ্লুকোমিটার বা সেন্সর ব্যবহার করে নিজের সুগার চেক করা যায়। সুগারের মাত্রা নির্ণয় করার পর আমরা খাবারের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে পারব কোন খাবারটি আমার শরীরের জন্য উপযুক্ত। ডায়াবেটিস রোগীর ঘরোয়া ভাবে সুগার ঠিক রাখার উপায়ের ক্ষেত্রে এ পদ্ধতির বিকল্প নেই।

ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য করলার উপকারিতা:-

ডায়াবেটিস কে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে সঠিক খাদ্য অভ্যাস নিয়মিত ব্যায়াম ও সচেতন জীবন যাপনের মাধ্যমে। ঘরোয়া ভাবে আমরা যে প্রাকৃতিক খাবার গুলো খায়। সেগুলোর মধ্যে রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখার উপাদান রয়েছে। আমরা প্রায় সময় করলাকে সবজি আকারে খেয়ে থাকি। অনেকে এর পুষ্টিগুণ সম্পর্কে অবগত নয়। এই সবজিটি খেতে তেতো যার কারণে অনেকে খেতে চান না। করলাই অনেক পুষ্টিগুণ রয়েছে। ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য করলা অত্যন্ত উপকারী সবজি। করলাতে পলি পেপটাইড পি নামক উপাদান রয়েছে যা রক্তের সুগারকে নিয়ন্ত্রণ রাখতে সাহায্য করে। এটিকে আপনি সবজি আকারে খেতে পারেন অথবা জুস আকারেও খেতে পারেন। ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে আপনি প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় করলা রাখতে পারেন। ডায়াবেটিস রোগীর ঘরোয়াভাবে সুগার ঠিক রাখার উপায়ের ক্ষেত্রে করলার যথেষ্ট পরিমাণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। 

এই রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য মেথির উপকারিতা:-

এই দীর্ঘমেয়াদী রোগকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইলে নিয়মিত স্বাস্থ্যকর খাবার এবং ওষুধের পাশাপাশি প্রাকৃতিক উপাদান গুলোর দিকে বিশেষ নজর দেওয়া খুবই জরুরী। আমাদের পারিবারিক ভাবে দৈনন্দিন রান্নার ক্ষেত্রে মসলা হিসেবে পরিচিত প্রাকৃতিক উপাদান এই  মেথি। এই মেথির উপাদান ডায়াবেটিস রোগ নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। দ্রবণীয় ফাইবার পরিপূর্ণ এই প্রাকৃতিক উপাদান খাওয়ার ফলে ধীরে ধীরে রক্তের শর্করা শরীরের গ্রহণ করতে সাহায্য করে। 


এই প্রাকৃতিক উপাদান শরীরের গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে। মেথি রাত্রে ভিজিয়ে রেখে সকালে এর পানি পান করলে ডায়াবেটিস রোগের ক্ষেত্রে অনেক সুস্থতা বয়ে নিয়ে আসে । ওজন নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে এই মেথির যথেষ্ট পরিমাণ ভূমিকা রয়েছে। ফাইবার বেশি এবং ক্যালোরি কম সমৃদ্ধ একটি অসাধারণ প্রাকৃতিক উপাদান এই মেথি। প্রচুর পুষ্টি উপাদানে ভরপুর এই প্রাকৃতিক উপাদান টিকে আমরা আমাদের সুস্থতার জন্য ডাক্তার অথবা পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী সেবন করতে পারি। 

এই রোগ নিরাময়ের ক্ষেত্রে দারুচিনির প্রয়োজনীয়তা:- 

ডায়াবেটিস সম্পূর্ণ নিরাময় না হলেও নিয়ন্ত্রণ রাখা সম্ভব। এটিকে নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য সঠিক খাদ্য অভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম এবং প্রাকৃতিক উপাদানের বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। দারুচিনি  আমাদের রান্নার উপকরণ । কিন্তু এই প্রাকৃতিক উপাদানের যথেষ্ট পরিমাণ ঔষধি গুন রয়েছে এবং ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে ভূমিকা রয়েছে। এতে সিনামালডিহাইড নামক একটি উপাদান আছে যা ব্যাকটেরিয়া এবং ছত্রাক সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে। টাইপ টু ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমায়। অনেক গবেষক দাবি করেন দারুচিনি খেলে রক্তের চাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে। দারুচিনি খাওয়ার ক্ষেত্রে কিছু নিয়ম মানা অবশ্যই জরুরি। অতিরিক্ত  খেলে লিভারের ক্ষতি হতে পারে। ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে খেতে হবে গর্ভবতী নারীরাও এ নিয়ম মেনে চলবেন।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে জিরার ভূমিকা:-

জিরা আমাদের খুব পরিচিত মসলা। ইহার অনেক ওষুধিগুণ রয়েছে। ডায়াবেটিস রোগীর নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে জিরার ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে পটাশিয়াম, সোডিয়াম, প্রোটিন এবংফ্যাটসহ বেশ কিছু ভিটামিন থাকে। জিরা শরীরের ওজন কমাতে সহায়তা করে। এতে থাকা কিছু উপাদান শরীরের ফ্যাট সঞ্চয় কমায় এবং শক্তির স্তর গড়ায়। ইহাতে যথেষ্ট পরিমাণ প্রাকৃতিক ফাইবার আছে যার ফলে   অতিরিক্ত খাদ্য গ্রহণের প্রবণতা কমায় । ইহা রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা রাখে এই পুষ্টি উপাদানগুলো ম্যাঙ্গানিজ, আয়রন এবং ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বৃদ্ধি করে। টাইপ টু ডায়াবেটিস কমাতে সাহায্য করে। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে ওষুধের বিকল্প হিসেবে এটিকে গ্রহণ করা যাবে না এ রোগের চিকিৎসার পাশাপাশি সহায়ক হিসাবে চিকিৎসক অথবা পুষ্টিবিদদের পরামর্শ অনুযায়ী সেবন করতে পারেন।
ডায়াবেটিস-রোগীর-ঘরোয়া-ভাবে-সুগার-ঠিক-রাখার-উপায় (2)


তামাক ও মাদক সেবন করা যাবে না:-

ডায়াবেটিস দীর্ঘমেয়াদী একটি রোগ , সঠিক খাদ্য অভ্যাস, নিয়ম তান্ত্রিক জীবন যাপন, ব্যায়াম এবং সঠিক চিন্তাধারার মাধ্যমে এ রোগ নিয়ন্ত্রণ করতে হয়। এ রোগ শরীরে বাসা বাঁধলে শরীরের প্রতিটি অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সংবেদনশীল হয়ে পড়ে। তামাক ও মাদক সেবন ডায়াবেটিস রোগের জন্য অত্যন্ত মারাত্মক। আপনি যদি ডায়াবেটিসকে নিয়ন্ত্রণ করতে চান তাহলে আপনাকে এসব পরিহার করতে হবে। তামাক এবং মাদক ডায়াবেটিস রোগীর জীবন বিপদের দিকে ঠেলে দেয় । জীবনের সুখ শান্তি কেড়ে নেবে। নিজের সুস্থতার জন্য এবং পরিবারের মঙ্গলের জন্য এসব থেকে নিজেকে দূরে রাখতে হবে। সিগারেট বিড়ির জর্দা সেবনের ফলে রক্তের শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে বাধা সৃষ্টি করে। এতে থাকা নিকোটিন হরমোনের কার্যক্ষমতার বিঘ্ন ঘটায়। মাদক সেবন ডায়াবেটিস রোগের জন্য অত্যন্ত ভয়াবহ। এসব সেবনের ফলে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়। সচেতন হন সুস্থ থাকুন সুন্দর জীবন গড়ুন।

ঘরোয়া খাদ্যের তালিকা তৈরি করতে হবে:-

সঠিক খাদ্য অভ্যাসের মাধ্যমে এ রোগ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।  অনেকের ভুল ধারণা আছে এই রোগ হলে  সুস্বাদু খাবার পরিহার করতে হবে।  অতিরিক্ত তেল মশলা ছাড়া আমরা সুস্বাদু খাবার তৈরি করতে পারি না। এ ধারণাটা পুরোপুরি সঠিক নয়। আমরা যদি ঘরোয়া ভাবে মনোযোগ সহকারে পরিমিত তেল মশলা দিয়ে রান্না করি। তাহলে সেই খাবারে স্বাভাবিক স্বাদ বজায় থাকবে ।এ ধরনের রোগের ক্ষেত্রে সুষম স্বাস্থ্যকর খাদ্যের তালিকা তৈরি করা অপরিহার্য। এই রোগের ক্ষেত্রে  খাদ্য তালিকা তৈরি করা খুব একটা কঠিন কাজ নয়। শুধুমাত্র চাই আপনার ইচ্ছা সচেতনতা নিয়ম মেনে চলা। আমরা সবাই সাধারণ খাবার দিয়ে সুস্থ জীবন যাপন করতে পারি। আজ থেকে আমাদের স্লোগান  হতে পারে সঠিক খাদ্য অভ্যাস অর্জন করি , সুস্থ সুন্দর জীবন গড়ি। 

পরিবারের সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে:- 

এই রোগ নিয়ন্ত্রণের জন্য রোগীর পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের সচেতন হতে হবে।  শুধুমাত্র রোগীর ক্ষেত্রে এ রোগ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। এ রোগ নিয়ন্ত্রণের জন্য মানসিক শক্তির প্রয়োজন। মানসিক শক্তি আসবে পরিবারের সদস্যদের সহযোগিতা থেকে। রোগীকে সাহায্য করতে চাইলে পরিবারের সদস্যদেরকে অবশ্যই এ রোগ সম্পর্কে যথেষ্ট পরিমাণ ধারণা থাকতে হবে। এই রোগটি দীর্ঘমেয়াদী রোগ। দীর্ঘদিন যাবত রোগের নিয়ম-নীতি মানতে গিয়ে রোগীর মধ্যে এক ধরনের অনিহা তৈরি হয়। সে ক্ষেত্রে রোগীর মনোবল ফেরানোর জন্য পরিবারের সদস্যের উৎসাহ দিতে হবে। পরিবারের সদস্যদের জন্য যদি বেশি তেল মসলা যুক্ত  খাবার রান্না করা হয়। তাহলে এ রোগীর ক্ষেত্রে ডাক্তারের পরামর্শ অথবা পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী কম তেল মসলাযুক্ত  খাবার রান্না করতে হবে । শুধুমাত্র ঔষধ  দ্বারা এ রোগ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব না , ওষুধের পাশাপাশি সঠিক খাদ্য অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। তবেই এই রোগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন , তাছাড়া কোনদিনও সম্ভব নয় ।

এই রোগে আক্রান্ত নতুন রোগীদের জন্য পরামর্শ:-

ডায়াবেটিস একটি দীর্ঘ মেয়াদী রোগ। এ রোগে আক্রান্ত হলে আমরা মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ি। কিন্তু সঠিক খাদ্য অভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম, সচেতনামূলক চলাফেরার মাধ্যমে সুন্দর সুস্থ স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারি। নিয়মিত রক্তে শর্করা পরীক্ষার মাধ্যমে শরীরের অবস্থান নির্ণয় করা যায় এবং সেই অনুপাতে খাদ্য গ্রহণ করা সহজ হয়। সচেতনমূলক খাদ্য অভ্যাস তৈরি করতে হবে। অতিরিক্ত তেল মশলাযুক্ত খাবার পরিহার করতে হবে। ফাস্টফুড বা বাজারের প্যাকেট জাতীয় খাবার থেকে নিজেকে বিরত রাখতে হবে। 


পর্যাপ্ত পরিমাণে শাকসবজি আঁশযুক্ত খাবার খেতে হবে এবং শরীরের চাহিদা অনুপাতে পানি পান করতে হবে। রক্তের শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য একবারে বেশি না খেয়ে, বারেবারে অল্প পরিমাণে খেতে হবে, নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে, হাঁটতে হবে, এ ধরনের অভ্যাস শরীরের ইনসুলিনের কার্য ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। ধূমপান ও মাদক সেবনের অভ্যাস যদি থেকে থাকে তাহলে তা পরিহার করতে হবে। এ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মনে রাখতে হবে, সঠিক খাদ্য অভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম সচেতন চলাফেরার মাধ্যমে এই রোগ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। আপনি যদি নিয়ম নীতি অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করতে ব্যর্থ হন । তাহলে কোনদিনও এই রোগ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে না।

লেখকের মন্তব্য:-

এ রোগ নিয়ে আলোচনা বা তথ্য দেওয়া যেমন জরুরী তেমনি মানুষকে সচেতন করে তোলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রোগে আক্রান্ত রোগীরা শারীরিক এবং মানসিকভাবেই অসুস্থ হয়ে পড়েন। মানসিকভাবে অসুস্থ না হয়ে আপনি যদি মনকে শক্ত করে সচেতনমূলক চলাফেরার মাধ্যমে সামনের দিকে এগিয়ে যান তাহলে আপনি অবশ্যই এই রোগ নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হবেন। সচেতনতার মাধ্যমে আপনাকে সফলতা অর্জন করতে হবে। শুধু এই রোগের ক্ষেত্রেই নয়, সচেতনতা এবং কঠোর  নিয়মানুবর্তিতা ছাড়া কোন কিছুতেই সফলতা আসে না বা কেউ অর্জন করতে পারেনি। অতএব আপনি যদি এই রোগ নিয়ন্ত্রণ করতে চান তাহলে অবশ্যই পজেটিভ দৃঢ় মনোবল নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে, তবেই আপনি সুস্থ সুন্দর স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারবেন, তাছাড়া নয়। 




 

 






 


এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ২

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ৩

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ৪